পুলিশের চাকরির জন্য কি কি কাগজ লাগে

বাংলাদেশ পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি আধা সামরিক সংস্থা , যা দেশের সুরক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনতা পাওয়ার পর, পুলিশ বিভাগকে নতুন করে পুনর্গঠিত করা হয়েছে এবং নতুন আঙ্গিকে একটি আদর্শ এবং জনবান্ধব বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশের চাকরি দেশের তুমুল জনপ্রিয় চাকরি গুলোর মধ্যে একটি। এই আলোচনায় আমরা বাংলাদেশ পুলিশের উদ্দেশ্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পুলিশের চাকরির জন্য কি কি কাগজ লাগে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

আরও পড়ুন :

বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া :

বাংলাদেশ পুলিশ দেশের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত দেশের প্রথম সারির আধা সামরিক সংস্থা গুলোর একটি। বাংলাদেশ পুলিশ নিয়ম তান্ত্রিক এবং সুগঠিত একটি বাহিনী। তাই এই পুলিশ বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছরই অসংখ্যা পদে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। পুলিশে সাধারণত তিনটি স্তরে ৪ ক্যাটাগরীতে নিয়োগ দিয়ে থাকে।

  • এএসপি
  • সার্জেন্ট/এস আই
  • পুলিশ কনষ্টেবল

আরও পড়ুন : চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বাংলা [Updated নিয়ম]

পুলিশ কনষ্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া :

বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগের একদম নিচের স্তরের নিয়োগ হচ্ছে, পুলিশ কনষ্টেবল। এবং নিয়োগের সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে এএসপি। বাংলাদেশের যে কোন মাধ্যমিক বা সমমান পাশ শারীরিক যোগ্যতা সমন্ন প্রার্থী সরাসরি পুলিশ কনষ্টেবল পদে যোগদান করতে পারেন।

পুলিশ কনষ্টেবল পদের নিয়োগ পক্রিয়া অন্যান্য সরকারি চাকরির তুলনায় একদম সহজ বলা চলে।

কারণ পুলিশ কনষ্টেবল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শারীরিক ফিটনেসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকৃত প্রার্থীদের একটি নির্দিষ্ট দিনে SMS এর মধ্যমে ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্ট বা মাঠের জন্য ডাকা হয়। সেখানে সর্বপ্রথমই শারীরিক যোগ্যতা এবং কোন শারীরিক ত্রুটি আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করা হয়।

তাই কি কি সমস্যা থাকলে পুলিশের চাকরি হয়না তা আপনার অবশ্যই জানা থাকতে হবে।

মাঠে আবেদন কৃত প্রার্থীদের মধ্য থেকে নির্ধারিত শারীরিক যোগ্যতা সম্পন্ন এবং ত্রুটি মুক্ত প্রার্থীদের প্রথমে আলাদা করে নেওয়া হয়। এবং নির্ধারিত শারীরিক যোগ্যতা নেই বা ত্রুটি যুক্ত প্রার্থীদের নিয়োগের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়।

তারপর যোগ্য প্রাথীদের দৌড়, লং জাম্প, পুশ আপ ইত্যাদির মত কিছু ইভেন্ট বা ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্ট সম্পূর্ণ করিয়ে নেওয়া হয়। যে সকল প্রার্থীগণ ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্টে সফল ভাবে উত্তীর্ন তাদেরকে এরপর প্রথমিক পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞানের উপর একটি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এইধাপে ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্টে যারা উত্তীর্ন হতে পারেননি তারা অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ন প্রার্থীদের প্রথমিক মেডিকেল করা হয় এবং সর্বশেষ ভাইভার মাধ্যমে একজন প্রার্থীকে পুলিশ কনষ্টেবল পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত ভাবে মাঠেই মনোনীত করা হয়।

সার্জেন্ট/এস আই নিয়োগ প্রক্রিয়া :

বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দানের দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে সার্জেন্ট/এস আই। স্নাতক বা সমমান পাশ শিক্ষার্থীগণ সার্জেন্ট/এস আই পদের জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে পুলিশ কনস্টেবলের মত সবাইকে ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্টের জন্য ডাকা হয়।

আবেদন কৃত প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে একটি নিদিষ্ট সংখ্যাক প্রার্থীদের ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্ট এর জন্য নির্বাচন করা হয়। এবং তাদেরকে ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্ট সহ ৩ দিন ব্যাপি প্রাথমিক ভাবে যাচায় বাছাই করা হয়।

যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সহ বিভিন্ন সনদপত্র যাচাই এবং ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্ট ইত্যাদি।

এই তিন দিনের প্রাথমিক বাছাই পর্বে আপনি তথ্যের যদি কোন অসংগতি থাকে বা ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্টের কোন ইভেন্টে অকৃতকার্য হন তাহলে আপনি নিয়োগের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

পরবর্তীতে একটি বাংলাদেশ পুলিশের হেড কোয়াটার নির্ধারিত তারিখে ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্টে উত্তীর্ন প্রার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান, গণিত ও মনস্তত্ব বিষয়ে ২৫০ মার্কের একটি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ন প্রার্থীদের ভাইভা ও পুলিশ ভেরিফিকেশণের পর সার্জেন্ট/এস আই পদে যোগদান জন্য সুপারিশ করা হয়।

এএসপি নিয়োগ প্রক্রিয়া :

একক ভাবে মূলত এএসপি(ASP) নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়না। এএসপি(ASP) পদে যোগদানের ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীকে বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভাতে উত্তীর্ন হতে হয়। এবং আপনার উচ্চতা ৫.৪” হতে হবে। তবে বিসিএসে উত্তীর্ন হলেই কেউ চাইলেই এএসপি পদে যোগদান করতে পারেন না। এএসপি পদে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ার জন্য অবশই মেধা তালিকার প্রথম দিকে থাকতে হয়।

এই হলো মোটামুটি বাংলাদেশ পুলেশের সংক্ষিপ্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া।

বাংলাদেশ পুলিশের চাকরির জন্য কি কি কাগজ লাগে:

আমরা উপরে পুলিশের চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ্য করার চেষ্টা করেছি। এই তিন স্তরের দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন ধরণের কাগজ পত্রের প্রয়োজন হয়। কিছু ক্ষেত্রে শুধু বিভিন্ন সনদ গুলো দেখানোর প্রয়োজন হয় এবার কিছু ক্ষেত্রে জমা দিতে হয়।

নিচে আমরা পুলিশের চাকরির জন্য কি কি কাগজ লাগে বা জমা দিতে হয় তা তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

পুলিশের চাকরিতে আবেদন করতে কি কি কাগজ লাগে:

বাংলাদেশ পুলিশের চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার তিনটি স্তরেরই প্রথম ধাপ হচ্ছে অনলাইনে আবেদন। অনলাইন আবেদনের এই ধাপে কোন প্রকার কাগজ পত্র জমা দিতে হয় না। তবে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আপনার কাছে থাকতে হবে।

যেমন : শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা মার্ক শিট, জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয় পত্র এবং স্বদ্য তোলা রঙিন ছবি।

কারণ এই উপকরণ গুলোর তথ্য অনলাইন আবেদন করার সময় প্রয়োজন হবে। এবং পুলিশ সহ যেকোনো সরকারি চাকরির আবেদনের তথ্য অবশ্যই আপনার শিক্ষা সনদ এবং জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয় পত্র অনুসারে হতে হবে।

অন্যথায় পুলিশ ভেরিফিকেশন বা চাকরি হওয়ার পরও আপনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিয়োগে আপনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। তাই অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের সময় অবশ্যই সকল শিক্ষা সনদ এবং জন্ম নিবন্ধন/জাতীয় পরিচয় সাথে রেখে সে অনুসারে আবেদন পত্র পূরণ করতে হবে।

পুলিশের চাকরি সহ প্রায় সব ধরণের চাকরিতে কাগজ পত্র দেখা হয় মূলত ভাইভার বা মৌখিক পরীক্ষার সময়। আর এই সময়ই আপনাকে সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য সনদের মূল কপি দেখাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সকল কাগজ প্রথম শ্রেণীর গ্যাজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে ।

এছাড়াও এসআই/সার্জেন্ট এবং পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্টের সময় সার্কুলারের বর্ণিত নির্দিষ্ট কাগজ পত্র প্রাথমিক ভাবে মাঠেই দেখা হবে।

পুলিশ নিয়োগ মাঠে কি কি কাগজ পত্র লাগে?

পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ট্রেইনি রিক্রুট কনষ্টেবল (টিআরসি) এবং এসআই/সার্জেন্ট পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের নিয়োগ মাঠে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। পুলিশের নিয়োগ মাঠে যে কাগজ পত্র গুলো আবশ্যই প্রয়োজন সেগুলো হল:

  • সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের মূল কপি/সাময়িক সনদপত্রের মূল কপি।
  • সার্টিফিকেট না থাকলে মার্ক শিটের মূল কপি।
  • সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চারিত্রিক সনদপত্র।
  • নাগরিকত্বের সনদপত্র।
  • অভিভাবকের সম্মতিপত্র (পুলিশ ওয়েবসাইটে প্রদত্ত নমুনা অনুযায়ী)।
  • প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি।
  • সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ৩ (তিন) কপি রঙিন ছবি (প্রথম শ্রেনির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত)
  • যে কোন কোটার সাপেক্ষে প্রমাণক সনদপত্রের মূল কপি। মূল কপি না থাকলে প্রথম শ্রেনির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ফটোকপি।
  • কম্পিউটার সার্টিফিকেট (এসআই/সার্জেন্ট পদের ক্ষেত্রে)

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যে সকল সনদপত্রের মূল কপি চাওয়া হয়ে সেসব সনদপত্রের মূল কপি আবশ্যই নিয়োগ মাঠে নিয়ে যেতে হবে। ফটোকপি, ছবি ও অন্যান্য কাগজপত্রের ক্ষেত্রে সেগুলো আবশ্যই প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে।

ভাইভাতে কি কি কাগজ লাগে:

পুলিশের চাকরির মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভাতে কি কি কাগজ জমা দিতে হয় তার তালিকা প্রদান করা হলো। পুলিশের নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় যখন আপনি উত্তীর্ন হবেন তখন মৌখিক পরীক্ষার সময় আপনাকে সাধারণভাবে নিম্নলিখিত কাগজপত্র জমা দিতে হবে:

  • পুলিশের চাকরির আবেদন ফর্ম: আপনি যখন পুলিশের চাকরির জন্য Online -এ আবেদন করবেন তখন সফল ভাবে আবেদন সম্পূর্ণ করার পর আপনার ছবি ইউজার ID এবং পাসওয়ার্ড যুক্ত একটি আবেদন ফর্ম (Applicant’s copy) প্রদান করা হবে। সেটি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে মৌখিক পরীক্ষার সময় জমা দিতে হবে।
  • লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র : বাংলাদেশ পুলিশের চাকরি সহ সকল সরকারি চাকরিতে লিখিত পরীক্ষা আগে প্রার্থীদের ছবি যুক্ত প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। এই প্রবেশ পত্রটি লিখিত পরীক্ষার হলে নিয়ে যেতে হয় এবং হল পরীক্ষক ছবির সাথে পরীক্ষার্থীর চেহারার মিল আছে কিনা সেটা যাচাই করে স্বাক্ষর করে থাকেন।ভাইভার সময় স্বাক্ষর করা সেই প্রবেশ পত্রটি জমা দিতে হবে।
  • সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদপত্র (সার্টিফিকেট): পুলিশের চাকরির ভাইভা বোর্ডে সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা মার্কশিট/সনদপত্রের ফটোকপি প্রথম শ্রেণীর গ্যাজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। এবং মূল কপি অবশ্যই সেখানে প্রদর্শন করতে হবে।
  • জন্ম সনদপত্র বা জাতীয় পরিচয় পত্র : মৌখিক পরীক্ষার আপনার জন্ম তারিখ এবং স্থায়ী ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সম্বলিত জন্ম সনদ বা জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি প্রথম শ্রেণীর গ্যাজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। যদি জন্ম সনদ না থাকে তাহলে শুধুমাত্র NID কার্ড এর কপি জমা দিলেই হবে।
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি: বাংলাদেশ পুলিশের চাকরির মৌখিক পরীক্ষার সময় যে ছবি দিয়ে আবেদন করেছিলেন সেই ছবির পাসপোর্ট সাইজের কপি প্রথম শ্রেণীর গ্যাজেটেড কর্মকর্তা মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষে স্ট্যাম্প সাইজের ছবিও দিতে হতে পারে। তবে উভয় ক্ষেত্রে যে ছবি ব্যবহার করবেন তা অবশ্যই স্বদ্য তোলা ছবি হতে হবে।
  • নাগরিকত্ব সনদপত্র : পুলিশের চাকরির মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রার্থী যে ইউনিয়ন/পৌরসভা-এর স্বায়ী বাসিন্দা সে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদের মূল কপি জমা দিয়ে হবে।
  • কোটার সনদ : আপনার যদি কোন বিশেষ কোটা থাকে তাহলে মৌখিক পরীক্ষার সময় বোর্ডে তার ফটোকপি কপি জমা দিতে হবে। এবং কোটা দাবির সমর্থনে প্রার্থীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সনদ/প্রমাণপত্র প্রথম শ্রেণীর গ্যাজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে।
  • চারিত্রিক সনদ:  ভাইভা বোর্ডে প্রার্থী যে  ইউনিয়ন/পৌরসভা-এর স্বায়ী বাসিন্দা সে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র/কাউন্সিলর/প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্রের মূল কপি জমা দিতে হবে।
  • অভিভাবকের অনুমতিপত্র: বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই পিতা বা লিগ্যাল অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন হবে। তাই মৌখিক পরীক্ষার সময় অভিভাবকের স্বাক্ষর যুক্ত অনুমতিপত্র জমা দিতে হবে।

পুলিশের চাকরির জন্য কি কি কাগজ লাগে

আরও পড়ুন : ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কি কি কাগজ লাগে

পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য :

বাংলাদেশ পুলিশ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী সেবা এবং পুলিশের মাধ্যমে দেশের সুরক্ষা, শান্তি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা, সম্পত্তি রক্ষা এবং অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা।

এবং সামাজিক এবং আদালতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা।

পুলিশ বিভিন্ন ধরনের ক্রিমিনাল অপরাধ ও অসামাজিক ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও তাদের জান মালের নিরাপত্তা দেওয়াও পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পুলিশ বাংলাদেশের আইন, শৃংখলা সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের সাথে সহযোগিতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সামাজিক অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে দূর্বার প্রতিরোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিস্তারিত বলতে গেলে, তাদের মৌলিক লক্ষ্য হলো সুরক্ষা, ব্যক্তিগত ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম  এবং অনুমোদিত কার্যক্রমের মাধ্যমে সমগ্র দেশের শান্তি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় করা।

বাংলাদেশ পুলিশের কিছু প্রাথমিক কাজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো:

  • সকল নাগরিকের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
  • ক্রিমিনাল অপরাধের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা।
  • স্থানীয় সামাজিক কর্মকান্ড সমর্থন করে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা প্রদান করা।
  • বৃদ্ধ, নারী, শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের সহায়তা করা।
  • মানবিক এবং সামাজিক অধিকার, দেশে প্রচলিত আইন কানুন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা।
  • আদালত বা সরকারের অর্পিত দ্বায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করা।
  • হরতাল, অবরোধ বা এমন অভূত পরিস্থিতিতে সরকারি সম্পত্তির হেফাজত করা।

এছাড়াও, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের সমাজ সেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড, মানবিক অধিকার এবং দেশের সংঙ্কটময় পরিস্থিতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, দেশের মূল্যবান সম্পদ রক্ষা এবং সমাজের শান্তি বজায় রাখার জন্য ব্যক্তিগত কার্যক্রমও পরিচালনা করে।

শেষ কথা :

বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশ সরকারের একটি সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান গুলো মধ্যে একটি। প্রতি বছর অসংখ্যা শূন্য পদে এই বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়। আর এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার সময় বা লিখিত পরীক্ষা পাশ করার পর পুলিশের চাকরির জন্য কি কি কাগজ লাগে তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে । এই বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানে জন্য কি কি কাগজ বা সনদ পত্র লাগবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

উপরে উল্লেখিত কাগজ পত্র গুলো বাদেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ভেদে, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, কম্পিউটার সার্টিফিকেট ইত্যাদির মত আরও কিছু কাগজ পত্রের প্রয়োজন হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে ভাইভায় যাওয়ার আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। আশা করি আপনি মনোযোগ দিয়ে আর্টিকেলটি পড়লে আপনার সকল চিন্তা দূর হবে।

Visited 1,718 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment