কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীর চাকরি হয় না; সম্ভাব্য সমাধান

দেশের মধ্যবৃত্ত, নিম্ন মধ্যবৃত্ত পরিবার গুলোতে বেড়ে ওঠা শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিটি বেশ জনপ্রিয়। তবে শুধু মধ্যবৃত্তই নয় দেশের অনেক উচ্চবৃত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরিবারের ছেলে মেয়েরাও দেশের জন্য কিছু করার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন। তবে অনেক যোগ্য ছেলে মেয়েরা নিজেদের সামান্য ত্রুটি/সমস্যার জন্য এই চাকরিতে যোগ দেওয়া নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন। এই আর্টিকেলে আমরা কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীর চাকরি হয় না এবং এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

আরওড়ুন :

Table of Contents

সেনাবাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়া :

এই অংশে আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করবো। কারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব চেয়ে বেশি এই পদেই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তাহলে চালুন সেনাবাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়া দেখে নেওয়া যাক।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সহজ নিয়োগ প্রক্রিয়া গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে যোগ দানের জন্য একজন প্রার্থীকে নির্দিষ্ট শারীরিক যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হয়। এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হয়, মাধ্যমিক বা সমমান পাশ। নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণত একদিনেই সম্পূর্ণ হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে আবেদনকৃত প্রার্থীদের নির্দিষ্ট দিনে মাঠের জন্য ডাকা হয়। সেখানে সর্বপ্রথম শিরীরিক যোগ্যতা ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি কোন শারীরিক ত্রুটি আছে কিনা সেটাও পরীক্ষা করা হয়। আর এখানেই মূলত কি কি সমস্যা থাকে সেনাবাহিনীতে চাকরি সেই বিষয়টি আসে। যা আমরা নিম্নে আলোচনা করবো।

শারীরিক যোগ্যতা এবং ত্রুটি মুক্ত প্রার্থীদের দৌড়, লং জাম্প, পুশ আপ ইত্যাদির মত কিছু ইভেন্ট সম্পন্ন করিয়ে নেওয়া হয়। এই সব ইভেন্টে সফল ভাবে সম্পূর্ণ করা প্রার্থীদের এরপর একদম প্রথমিক পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞানের উপর একটি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেখানে প্রায় সকলেই পাশ করে বললেই চলে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ন প্রার্থীদের পরবর্তীতে প্রথমিক মেডিকেল এবং ভাইভার মাধ্যমে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত ভাবে মনোনীত করা হয়। এর এটাই মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরির সবচেয়ে আনন্দের বিষয় যে, মাঠ থেকেই সরাসরি চাকরি পাওয়া যায়।

নিজে নিজে সেনা বাহিনী সরকারির আবেদন করতে দেখুন : মোবাইলে চাকরির আবেদন করার নিয়ম 

কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীর চাকরি হয় না :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের সময় শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হয়। শারীরিক ফিটনেস সবচেয়ে বেশি দেখা হয় সৈনিক পদে যোগদানের সময়। তাই আপনি যদি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক বা অন্য পদে যোগ দানের আগ্রহ পোষণ করেন তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য বেশ সহায়ক হবে, ইনশাল্লাহ।

আত্মবিশ্বাসের অভাব :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুলিশ বিজিবি সহ সব ধরনের সামরিক বাহিনীতে যোগদান করতে না পারার অন্যতম কারনের মধ্যে একটি হলো আত্মবিশ্বাসের অভাব। আমার এই সমস্যা, ওই সমস্যা, আমার বাপের ত টাকা নাই ! ইত্যাদি চিন্তা ভাবনা গুলো আপনার মনোবল কে একদম শেষ করে ফেলে।

পৃথিবীতে কোন মানুষই পারফেক্ট নয়। সবারই কোন না কোন সমস্যা রয়েছে। এমনি কি যারা সেনাবাহিনীতে চাকরি পায় তারাও পারফেক্ট হয় না। তবুও তারা বিভিন্ন সমস্যা নিয়েই চাকরি পাচ্ছে। তাই নিজের দুর্বলতা গুলোকে প্রধান্য না নিয়ে পজিটিভ জিনিস গুলোকে ফোকাস করে কনফিডেন্টের সাথে নিয়োগ মাঠে উপস্থিত হতে হবে। 

নির্ধারিত শরীরিক যোগ্যতা :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য সর্বপ্রথম যে জিনিসটি দেখা হয় সেটি হলো আপনার শারীরিক ফিটনেস। সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য অবশ্যই অবশ্যই আপনাতে সার্কুলারে বর্ণিত শারীরিক যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে।

সেনাবাহিনীতে ছেলেদের যোগ্যতা :

ছেলে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে, উচ্চতা সর্বনিম্ন ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি, বুকের স্বাভাবিক মাপ হচ্ছে ৩০ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত মাপ হচ্ছে ৩২ ইঞ্চি এবং ওজন হতে হবে সর্বনিম্ন ৪৯.৫ কেজি।

আর্মি চাকরির মেয়েদের যোগ্যতা :

মেয়ে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতার মাপ হচ্ছে, উচ্চতা সর্বনিম্ন ৫ ফিট ৩ ইঞ্চি, বুকের স্বাভাবিক মাপ হচ্ছে ২৮ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত মাপ হচ্ছে ৩০ ইঞ্চি এবং ওজন হতে হবে সর্বনিম্ন ৪৭ কেজি। তবে উচ্চতা এবং ওজনের অবশ্যই ভরসাম্য থাকতে হবে। অর্থাৎ BMI অনুসারে হতে হবে।

আপনার যদি ওজন এবং উচ্চতার মধ্যে ভরসাম্য না থাকে তাহলে একজন ভালো পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে নিয়োগ মাঠে যাওয়ার পূর্বেই BMI অনুপাত স্বাভাবিক করে নিতে হবে। 

চোখের সমস্যা :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বশেষ প্রকাশিত সার্কুলার অনুসারে সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য আপনার চোখের দৃষ্টি শক্তি অবশ্যই ৬/৬ হতে হবে। আপনার দৃষ্টি শক্তি যদি এর চেয়ে কম হয়ে থাকে তাহলে আপনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দানে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তাই আপনার চোখের দৃষ্টি শক্তি যদি কম থাকে তাহলে ভালো কোন চোখের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়াও অতিরিক্ত সাদা বা কয়রা চোখের কারণেও আপনি বাদ পরতে পারেন।

কালার ব্লাইন্ড সমস্যা :

অপনি যদি কালার ব্লাইন্ড হোন তাহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আপনার আবেদন না করাই উত্তম। কারণ এই ক্ষেত্রে আপনি ১০০% বাদ পরবেন। কালার ব্লাইন্ড সমস্যার সমাধান না থাকায় আবেদন না করায় উত্তম।

কানের সমস্যা :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে কানের সমস্যার বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। কারণ সামরিক বাহিনীতে সাঁতার জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ন। তাই আপনার কানের পর্দা যদি ছেড়া বা ফাটা হয় তাহলে সাঁতার এবং পানির নিচে ডুব দিতে সমস্যা হবে। তাই সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য আপনার কানের পর্দা ঠিক থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ন।

এছাড়া, কানে কম শোনা, কান থেকে পুঁজ বা তৈলক্ত জাতীয় কিছু বের হওয়া সমস্যা থাকলেও সেনাবাহিনীতে আপনার চাকরি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই আপনার কানে যদি এমন কোন সমস্যা থাকে তাহলে শুরু থেকেই একজন ভাল কান বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে তা ঠিক করে নিতে হবে।

নাকের সমস্যা :

আপনার নাকে যদি অতিরিক্ত মাংস বৃদ্ধি পায় বা নাকে পলিপাস থাকে তাহলে আপনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল টেস্টে বাদ পড়ে যাবেন। কারণ মেডিকেলের সময় এই বিষয়টি দেখা হয়। তবে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই নাকের এই ধরণের সমস্যা গুলো মেডিক্যাল সার্জারির মাধ্যমে খুব সহজেই সমাধান করা যায়। তাই সেনাবাহিনীতে আবেদন করার পূর্বের আপনার অবশ্যই একজন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো উচিত।

অতিরিক্ত পাকা চুল :

অনেকের হরমোন জনিত সমস্যার জন্য অল্প বয়সেই মাথার চুল পেকে যায়। কারো সামান্য পরিমানে পাকে আবার কারো অতিরিক্তর মাত্রায় পাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরির মাঠ থেকে বাদ পরার কারণ গুলোর মধ্যে এটি একটি। আপনার মাথার চুল যদি অতিরিক্ত পরিমানে পেকে যায় তাহলে আপনি মাঠ থেকেই বাদ পড়ে যাবেন এটি প্রায় নিশ্চিত।

তবে পাঁকা চুলের পরিমান যদি অল্প হয় তাহলে সেনাবাহিনীতে যোগদানে এটি তেমন কোন প্রতিবন্ধীকতা সৃষ্টি করবেন না। আপনার মাথায় যদি অতিরিক্ত পরিমানে পাঁকা চুল থাকে এবং আপনি যদি সেনাবাহিনীতে যোগদানের ইচ্ছে পোষণ করেন তাহলে এখনই আপনার একজন ভাল চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো উচিত।

নকনি বা দুই হাটু লেগে যাওয়া :

সেনাবাহিনীর নিয়োগ মাঠে প্রাথমিক পর্যায়ে বাদ পরার অন্যতম কারণ গুলোর মধ্যে একটি হলো নকনি বা দুই হাটু লেগে যাওয়া। দুই পায়ের গোড়ালি একত্র করে পায়ের অগ্রভাগকে ‘V’ আকৃতি করার পর যদি দুই হাটু লেগে যায় তাহলে সেটিকেই মূলত নকনি বলা হয়। আপনি যখম সেনাবাহিনীর নিয়োগ মাঠে যাবেন তখন প্রাথমিক স্কেনিং-এর সময়ই আপনার নকনি আছে কিনা সেটা দেখা হবে। আপনার যদি দুই হাটু লেগে যাওয়ার সমস্যা থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই অবশ্যই মাঠে বাদ পড়ে যাবেন।

নকনি মূলত দৌড়ের সময় সমস্যা সৃষ্টি করে তাই প্রতিটি সামরিক বাহিনীতে যোগ দানের সময় এটি পরীক্ষা করা হয়। তবে খুশির সংবাদ হচ্ছে নকনি খুব সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে ঠিক করা যায়। নকনি সার্জারি এবং ব্যায়ামের দুই ভাবেই দূর করা যায়। তবে ব্যায়ামের মাধ্যমে দূর করাই বেশি উত্তম। এই ক্ষেত্রে রাতে ঘুমানোর সময় দুই পায়ের মাঝে বালিশ বা শক্ত কিছু দেওয়া সহ বেশ কিছু ব্যায়াম রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি ভালো কোন জিমনেশিয়ামের সাহায্যও নিতে পারেন অথবা ইউটিউব দেখে বাড়িতেও ব্যায়াম করতে পারেন। আপনি ইউটিউবে একটু খোঁজা খুজি করলেই এই রিলেটেড অনেক ভিডিও পেয়ে যাবেন। 

পায়ের কুনি পাঁকা সমস্যা :

বিভিন্ন কারণে আমাদের পায়ের এবং হাতের বৃদ্ধা আঙুলে কুনি পাঁকা সমস্যা হয়ে থাকে। তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রে পায়ের আঙুলেই এটি বেশি দেখা যায়। আপনার পায়েও যদি কুনি পাঁকা সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনি ১০০% নিয়োগ মাঠ থেকে বাদ পরবেন। কুনি পাঁকা সমস্যা মূলত আমাদের অবহেলার কারণেই নিরাময় করা সম্ভব হয় না।

কিন্তু এই সমস্যাটি একটু সচেতন হলে খুব সহজেই দূর করা যায়। তাই আপনারও যদি কুনি পাঁকা সমস্যা থাকে তাহলে অতি দ্রুত একজন ভালো মেডিসিন ডাক্তারের সরাপন্ন হন। এবং উঁনার মূল্যবান দিকনির্দেশনা অনুসরণ করুন। কারণ অতি সামান্য এই সমস্যাটি আপনার সেনাবাহিনীতে যোগাদানের স্বপ্নকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই এখনই সময় থাকতে সচেতন হোন। 

দাঁতের সমস্যা :

দাঁতের সমস্যা গুলো প্রাথমিক যাচায় বাঁছায়ে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। তবে মেডিকেলের সময় দাঁতের কিছু কিছু সমস্যার কারণে আপনি বাদ পরে যেতে পারেন। দাঁতের সমস্যা গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম যেটি দেখা হয় সেটি হলো আপনার ২৮টি দাঁত রয়েছে কিনা। অর্থাৎ মাড়ির শেষের ৪ টি দাঁত (আক্কেল দাঁত) বাদে ২৮ টি দাঁত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দানের জন্য আপনার অবশ্যই ২৮ টি দাঁত থাকতে হবে।

এছাড়াও আপনার দাঁত খুব বেশি এলোমেলো কিনা এবং দাঁতের মারি স্বাভাবিক রয়েছে কিনা এটাও দেখা হয়। আপনার দাঁত আল্প পরিমানে এলোমেলো থাকলে এটির জন্য আপনি বাদ পরবেন না। তবে দাঁত খুব বেশি এলোমেলো হলে এবং মারি অস্বাভাবিক হলে আপনি বাদ পরে যাবেন। তবে দাঁতে রুট ক্যানেল, ফিলিং বা দাঁত অল্প পরিমানে ভাঙ্গা হলে তেমন কোন সমস্যা হয় না। 

হাত পা ভাঙ্গা :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়োগ মাঠে মূলত দৃশ্যমান সমস্যা গুলোর কারণে একজন প্রার্থী  প্রাথমিক ভাবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হোন। তবে কিছু কিছু সমস্যা আছে যেগুলো বাইরে থেকে দেখা না গেলেও সেনাবাহিনী নিয়োগের পরবর্তী ধাপে এসে সেগুলোর কারণে প্রার্থীগণ বাদ পরে যান। এই সমস্যা গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে হাত পা ভাঙ্গা। আপনার যদি হাত পা ভাঙ্গা থাকে তাহলে আপনি নিয়োগ থেকে বাদ পরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হাত পা ভাঙ্গা হলেই যে আপনি বাদ পড়ে যাবেন বিষয়টি এমনও না। অবস্থা ভেদে আপনি চাকরি পেয়েও যেতে পারেন।

ফ্লাট পায়ের তালু :

আমাদের মধ্যে অনেকরই পায়ের তালু ফ্লাট থাকে। সেনাবাহিনীতে যোগদানে অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার কারণ গুলোর মধ্যে এটি একটি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়োগ মাঠে বা মেডিকেলের সময় আপনার পায়ের তালু ফ্লাট / একসমান কিনা সেটা পরীক্ষা করা হয়। আপনার পায়ের তালু যদি একসমান ফ্লাট হয় তাহলেও আপনি সেনাবাহিনীতে যোগদানে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। 

অতিরিক্ত হাতের তালু ঘামা :

হাতের তালু ঘামা সমস্যাটি একদম কমন না হলেও একদম বিরল নয়। অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। মূলত হরমোন জাতীয় সমস্যার কারণ এই সমস্যা টি হয়ে থাকে। সেনাবাহিনীতে যোগদানের সময় কারো হাতের তালু অতিরিক্ত ঘামার সমস্যাটি আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করা হয়। যদি আপনারও অতিরিক্ত হাতের তালু ঘামার সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনি সেনাবাহিনীতে যোগদানে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।

তবে এই সমস্যাটি নিরাময় যোগ্য। আপনার মধ্যে যদি এই সমস্যাটি থাকে তাহলে আর দেরি না করে দ্রুত একজন ভালো চর্ম ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়োগ মাঠে উপস্থিত হওয়ার আগেই এই সমস্যাটি নিরাময় করে ফেলুন। 

পাইলস, হার্নিয়া ও শিরা রোগ :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে না পারার অন্যতম প্রধান কারণ গুলোর মধ্যে একটি পাইলস, হার্নিয়া ও শিরা রোগ। আপনি যদি এই রোগ গুলোতে আক্রান্ত হোন তাহলে মোটামুটি নিশ্চিত আপনি মেডিকেল থেকে বাদ পরে যাবেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহ সব ধরনের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় এই বিষয় টি খুব গুরুত্বদের সাথে দেখা। তাই এই রোগ গুলো নিয়ে অবহেলা করার কিছু নেই কারণ এই রোগ গুলো আপনার সেনাবাহিনীর যোগদানের স্বপ্নকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে।

আপনি যদি এমন রোগে আক্রান্ত হোন তাহলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এই রোগ গুলো চিকিৎসার মধ্যে নিরাময় করা সম্ভব। তাই আপনি এই ধরণের রোগে আক্রান্ত হলে আর বসে না থেকে দ্রুত একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। 

শরীরে কাঁটা দাগ ও ট্যাটু :

সামরিক বাহিনীতে চাকরি প্রত্যাশীগণ শরীরে বিভিন্ন কাঁটা দাগ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্নে থাকেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়োগর শর্তবলি সম্পর্কে তারা অবগত না হওয়ার কারণে এই বিশাল পরিমানের চাকরি প্রত্যাশীরা মনে করেন শরীরে কোন কাঁটা বা সেলাই এর দাগ থাকলে সেনাবাহিনী সহ সামরিক কোন বাহিনীতে চাকরি করা যায় না। এই ধারণার বসবর্তী হয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থীরাও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আবেদন করেন না। ফলে সেনাবাহিনীতে চাকরি করার স্বপ্ন তাদের অধরাই থেকে যায়।

কিন্তু তাদের এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। হাতে পায়ে বা শরীরে কাঁটা দাগ থাকলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহ যে কোন সামরিক বাহিনীতে যোগদান করা যায়। এমনি শুধু কাঁটা দাগই নয় যদি সেলাইয়ের দাগও থাকে তবুও কোন সমস্যা ছাড়াই সেনাবাহিনীতে যোগদান করা যায়।

তবে আপনার শরীরে যদি অনেক বড় পরিমানে কাঁটার এবং সেলায়ের দাগ, কোন প্রকার ট্যাটু কিংবা আবেগে যদি ব্লেড দিয়ে হাত কাটেন বা নিজের বা প্রেমিক প্রেমিকার নাম লিখেন তাহলে আপনি সেনাবাহিনীতে যোগদানের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। 

অতি মাত্রায় চর্মরোগ :

সেনাবাহিনী সহ সব ধরনের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে শরীরে কোন প্রকার ঘা, দাউদ, চুলকানি, ছুলি, শ্বেতিরোগ, কুষ্ঠ,  ব্রণ ইত্যাদি অতিরিক্ত মাত্রায় আছে কিনা তা খুব ভালোভাবে দেখা হয়। তবে আপনার এই ধরনের চর্ম রোগ যদি খুব বেশি পরিমানে না হয়  অর্থাৎ সহজে যদি বোঝা না যায় তাহলে এগুলো নিয়োগের ক্ষেত্রে তেমন কোন বাধা সৃষ্টি করে না । তবে যদি অতিরিক্ত মাত্রায় হয়ে থাকে তাহলে আপনার বাদ পরার সম্ভাবনা রয়েছেন।

তবে চর্ম রোগ যেহেতু চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করা যায়। তাই আপনি এইসব রোগে আক্রান্ত হলে আপনার উচিত দ্রুত ভালো কোন চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

জন্মগত শারীরিক ত্রুটি :

পৃথিবীতে সকল মানুষের শরীরিক গঠন এক রকম হয় না। একেক জনের শরীরের আকৃতি একেক রকম। এই বৈচিত্রের মধ্যে কিছু কিছু মানুষ জন্মগত ভাবে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। কিছু কিছু সমস্যা সামরিক বাহিনীতে যোগদানের জন্য বিবেচনা করার মত এবং কিছু বিবেচনার অযোগ্য। আপনার সমস্যাটি যদি বিবেচনা যোগ্য বা চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হয় তাহলে তাহলে আপনার উচিত অন্তত একবার হলেও সেনাবাহিনী বা যে কোন সামরিক বাহিনতে আবেদন করা। 

ঠোটকাটা ও কানকাটা:

আপনি যদি জন্মগত ভাবেই নাক কাঁটা বা কানকাটা হয়ে থাকেন তাহলে আপনি সামরিক বাহিনীতে যোগদানের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। আপনি যদি ওপারেশন করেও থাকেন তবুও আপনি অযোগ্য বলেই বিবেচিত হবেন।

কথা বলার জড়তা :

কথার অস্পষ্টতা সামরিক বাহিনীতে যোগদানে অযোগ্যতার একটি অন্যতম কারণ। তবে এর মাত্র যদি সামান্য হয় তাহলে এটি তেমন কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। তবে অতিরিক্ত কথার অস্পষ্টতা বা অতিরিক্ত তোতলানো আপনার অযোগ্য হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই নিয়োগ মাঠে উপস্থিত হওয়ার আগেই এই সমস্যাটি সমাধান করে নেওয়াই উত্তম। এই ক্ষেত্রে আপনি একজন ভালো ডাক্তারের পারামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও ইউটিউবে অনেক ভিডিও পেয়ে যাবেন সেগুলোও অনুসরণ করতে পারেন।

ফৌজদারি মামলা :

বিভিন্ন কারণে অনেকের নামেই বিভিন্ন ধরণের মামলা হয়ে থাকে। মামলা মূলত ২ ধরনের হয়ে। ১. ফৌজদারি মামলা ২. দেওয়ানী মামলা। সেনাবাহিনী সহ যে কোন সরকারি চাকরিতে দেওয়ানী মামলা তেমন কোন সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে আপনার নামে যদি কোন প্রকার ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকে তাহলে আপনি আপনি সেনাবাহিনী ভেরিফিকেশনের সময় বাদ পরে যাবেন। তবে ফৌজদারি মামলা আবার দুই ধরনের হয়। ১. জি আর মামলা ২. সি আর মামলা।

আরও পড়ুন : মামলা থাকলে কি সরকারি চাকরি হয়? বাস্তবতা কি বলে!

থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে যে মামলা হয় সেটি হচ্ছে জি আর মামলা আর কোর্টে আবেদনের মাধ্যমে যে মামলা হয় তা সি আর মামলা। সি আর মামলা মামলার কারণে আপনি সেনাবাহিনী ভেরিফিকেশে বাদ না পরলেও জি আর মামলা থাকলে বাদ পরে যাবেন। তাই সেনাবাহিনীর নিয়োগ মাঠে উপস্থিত হওয়ার আগেই মামলা নিস্পত্তি করে নিতে হবে। আর সর্ববস্থায় ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত প্রার্থীগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীর চাকরি হয় না

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কার্যক্রম :

দেশের সর্বভোমত্ব রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি স্থল শাখা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সশস্ত্র বাহিনী গুলোর মধ্যে সবথেকে বেশি প্রশিক্ষিত এবং আধুনিক সমরাস্ত্র দ্বারা সুসজ্জিত একটি বাহিনী। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এদেশের অখণ্ডতা রক্ষা সহ সব ধরনের নিরাপত্তা সহায়তায় জন্য করে আসছে।

এছাড়াও দেশের সব ধরণের বিপদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে একবিন্দু কুন্ঠাবোধ করেন না। এগুলোর পাশাপাশি দেশে বন্যা, জলোচ্ছাস ও বড় বড় দুর্যোগ গুলোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ সহ বিভিন্ন ধরণের বেসামরিক কার্যক্রম খুব নিষ্টার সাথে পরিচালনা করে থাকে। এই সব কারণে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য শত কষ্টের মাঝেও নিজেকে একজন আদৰ্শ দেশ প্রেমিক ও দেশের গর্বিত নাগরিক মনে করেন।

এই কারণেই দেশের সৎ, নিষ্ঠাবান ছেলে মেয়েরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দান করতে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে থাকে। আর একজন সেনা সদস্যের বাবা মারাও তাদের সন্তানদের নিয়ে ব্যাপক গর্ভবোধ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোন প্রকার টাকা ছাড়াই খুব সহজে চাকরি পাওয়া যায় বলে চলমান সরকারি চাকরি গুলোর মধ্যে সেনাবাহিনীর চাকরি দেশে ডিমান্ডেবল চাকরি গুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট হয়ে গেলে চলে পরবর্তী আলোচনায় যাওয়া যাক।

শেষ কথা :

সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী সহ প্রায় সব ধরনে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের সময় শারীরিক যোগ্যতার বিষয় গুলো খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। তার মানে এই না যে আপনি ছোটখাটো কোন ত্রুটি থাকলেই বাদ পরে যাবেন। আবার সবাই কে একই ভাবে স্কেনিং করে না। তাই কেউ যদি নকনির জন্য বাদ পরে তার মানে এই না যে আপনিও শিউর বাদ পরবেন। তাই কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীর চাকরি হয় না এই সব চিন্তা না করে সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই উত্তম। 

Visited 259 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment