গার্মেন্টস চাকরির আবেদন ও পদোন্নতির পত্র লিখার নিয়ম

গার্মেন্টস শিল্প হচ্ছে পুরুষ, মহিলা, বাচ্চা ও নবজাতকের পোশাক তৈরী, প্রক্রিয়া করণ ও বিপননের সাথে সংশ্লিস্ট বিশাল ব্যবসায়িক কার্যক্রম । এই শিল্পে সুতা উৎপাদন থেকে শুরু করে পোশাকের উৎপাদন, প্রস্তুতিকরণ, প্রমোশন, বিপনন এবং রপ্তনিকরণ সব ধরণের কার্যক্রম হয়ে থাকে। গার্মেন্টস শিল্প সাধারণত নানা ধরণের পোশাক উৎপাদনের সাথে যুক্ত থাকে, যার স্কেল ছোট থেকে বৃহৎ পরিসর পর্যাপ্ত হতে পারে। গার্মেন্টস শিল্পে বিভিন্ন ধরণের ক্যাটাগরির পোশাক, যেমন সুট, টি-শার্ট, জিন্স, পাঞ্জাবী, শাড়ি, স্কার্ট, ব্লাউজ, জ্যাকেট, সোয়েটার, পোশাক তৈরির উপকরণ ইত্যাদি উৎপাদন করা হয়। পোশাক উৎপাদনের বৃহৎ এই শিল্পটি দেশের বেকারত্ব দূর করতেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এই আলোচনায় আমরা গার্মেন্টস এ চাকরি,  নিয়োগ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং গার্মেন্টস চাকরির আবেদন পত্র  পদোন্নতির লিখার নিয়ম ও নমুনা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরবো।

আরও পড়ুন :

Table of Contents

গার্মেন্টসে চাকরি :

গার্মেন্টস  হলো একটি প্রসিদ্ধ শিল্প যা বস্ত্র উৎপাদন, প্রস্তুতিকরণ, বিক্রয় এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে কাজ করে। এই শিল্পের বিভিন্ন শাখায় বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ রয়েছে, যেমন স্কেটার, প্রোডাক্ট ডিজাইনার, স্টাইলিস্ট, প্যাটার্ন মেকার, সেলস এজেন্ট, কর্মকর্তা ইত্যাদি।

প্রতিটি পদের জন্য বিশেষ যোগ্যতা, যেমন ক্রিয়েটিভ দক্ষতা, ডিজাইন জ্ঞান, বিক্রয় ক্ষমতা ইত্যাদি প্রয়োজন।

সাধারণভাবে, গার্মেন্টস শিল্পে চাকরি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা রয়েছে। গার্মেন্টস কোম্পানি গুলোতে চাকরির সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতাকে খুব বেশি প্রধান্য দেওয়া হয় না। ফলে একদম নবীন বা অল্প শিক্ষিত বেকার জনগষ্টি খুব সহজেই গার্মেন্টস এ চাকরিতে যোগ দিতে পারে।  পাশাপাশি গার্মেন্টস চাকরিতে বেতন মোটামুটি সন্তোষ জনক হওয়াই এবং দ্রুত পদোন্নতি হওয়ায় এই চাকরি দেশের বেকারত্ব দূর করতে আগ্রনী ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন : দরখাস্ত লেখার নিয়ম ও নমুনা ২০২৪ [Updated নিয়ম]

গার্মেন্টসে চাকরির যোগ্যতা:

গার্মেন্টস শিল্পে চাকরি গুলোতে যোগদানের জন্য মূলত দুই ধরণের যোগ্যতা দেখা হয়। ১. শিক্ষাগত যোগ্যতা। ২. কারিগরী যোগ্যতা। তবে গার্মেন্টস শিল্পে শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে কারিগরি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকেই বেশি প্রধান্য দেওয়া হয়।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা : মাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীগণ গার্মেন্টসে চাকরি করতে পারেন। বিভিন্ন পদের উপর ভিত্তি করে শিক্ষাগত যোগ্যতার তারতম্য হয়ে থাকে। যেমন : হেলপার, লে ম্যান, কোয়ালিটি পদে যোগদানের জন্য মাধ্যমিক পাশই যথেষ্ট আবার HR ও এ্যাডমিন পদে যোগদানের জন্য স্নাতক বা স্নাতকোত্তর প্রয়োজন।
  • ডিজাইন স্কিলস: গার্মেন্টস শিল্পের ডিজাইন শিল্পের যারা যোগ দিতে চান তাদের ক্ষেত্রে সুন্দর পণ্য ডিজাইন এবং মোডেলিং দক্ষতা আছে কিনা তা যাচায় করা হয়।
  • উৎপাদন দক্ষতা: গার্মেন্টস শিল্পে বিভিন্ন উপকরণের তৈরি, কাটা, সিলাই, প্যাকেজিং ইত্যাদির কাজে কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয় কার্যকরতা ও উৎপাদন দক্ষতা আছে কিনা তা দেখা হয়।
  • মান নিয়ন্ত্রণ জ্ঞান: কোয়ালিটি বিভাগে যোগদানের জন্য একজন চাকরি প্রার্থীর গার্মেন্টস শিল্পে মান নিয়ন্ত্রণের জ্ঞান এবং কার্যকর মান বিশ্লেষণের ক্ষমতা আছে কিনা তা দেখা হয়।
  • উদ্ভাবনী মাইন্ডসেট: গার্মেন্টস শিল্প একটি সৃজনশীল ও ট্রেনডিং একটি সেক্টর। তাই ডিজাইন বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উপরোক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন হলে গার্মেন্টস শিল্পে চাকরির জন্য আপনি অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী বলে বিবেচিত হতে পারেন।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বা অফিসের প্রয়োজন অনুমান করে বিশেষ যোগ্যতা দরকার হতে পারে।

গার্মেন্টস অফিসিয়াল চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া:

গার্মেন্টস শিল্পে চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধরণের পদে জন্য ভিন্ন ভাবে হতে পারে।সাধারণভাবে যে পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হয় তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

  • সরাসরি নিয়োগ: গার্মেন্টস শিল্পে নিম্ন পদের চাকরি গুলোতে মূলত সরাসরি প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে নিদিষ্ট দিন গুলোতে কারখানা বা অফিসের গেট থেকে প্রার্থীদের ডেকে নিয়ে মৌখিক সাক্ষাৎকার ও কাগজ যাচায়ের মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হয়
  • আবেদন জমা: এই ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিক বা অনলাইন জব পোর্টালে প্রকাশিত গার্মেন্টস শিল্পে চাকরির সার্কুলার অনুসারে আপনার সিভি এবং অভিজ্ঞতা সহ ইমেইল, অনলাইন বা সরাসরি অফিসে জমা দিতে হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
  • পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার: কিছু  কিছু পদের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হতে পারে, যাতে তাদের দক্ষতা এবং যোগ্যতা মূল্যায়ন করা যায়।
  • নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগ: সকল প্রক্রিয়া শেষ হলে, উচ্চ দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের নির্ধারিত পদে নিয়োগ করা হয়।

সাধারণভাবে গার্মেন্টস শিল্পে চাকরির জন্য উপরোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

কিন্তু বিভিন্ন অফিস বা কারখানায় এই প্রক্রিয়া পরিবর্তন হতে পারে।

গার্মেন্টস চাকরির ইন্টারভিউ:

গার্মেন্টস শিল্পে চাকরির ইন্টারভিউ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা প্রার্থীদের দক্ষতা, প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সাথে তার সামর্থ্য মূল্যায়ন করতে ব্যবহৃত হয়। গার্মেন্টস চাকরির ইন্টারভিউে প্রাসঙ্গিক যেকোনো বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে। এই অংশে আমরা নিম্ন পদে থেকে উচ্চ পদে যোগদানের ইন্টারভিউ কেমন হতে পারে, কি কি বিষয় জিজ্ঞাসিত হতে পারে সে সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দিবো।

  • সিভি এবং পেশাগত যোগ্যতা প্রদর্শন: ইন্টারভিউয়ের শুরুতেই আপনাকে আপনার সিভি প্রদান করা হবে, যেখানে আপনি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং কাজের অন্যান্য উপকরণ প্রকাশ করতে পারেন।
  • গার্মেন্টস শিল্প সম্পর্কে জ্ঞান: ইন্টারভিউয়ে গার্মেন্টস শিল্প সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে। তাই গার্মেন্টস শিল্প চাকরি করার জন্য গার্মেন্টস শিল্প সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ, এটি আপনার কর্মদক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা কে প্রদর্শন করতে সাহায্য করতে পারে।
  • ডিজাইন সংক্রান্ত প্রশ্ন: ইন্টারভিউয়ে আপনি পূর্বে গার্মেন্টস ডিজাইন সম্পর্কিত কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন কিনা সেটা জিজ্ঞাসিত হতে হবে। এবং আপনার নমুনা কাজ, দক্ষতা, ডিজাইন ইত্যাদি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে।
  • ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত প্রশ্ন: আপনি কিভাবে আপনার কাজকে গতিশীল করবেন, আপনি কীভাবে টীম ওয়ার্ক করবেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য কি কি করবেন এই সব বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে।
  • দক্ষতা ও যোগ্যতা মূল্যায়ন: ইন্টারভিউে আপনার দক্ষতা, যোগ্যতা এবং অন্যান্য দিক গুলো বিভিন্ন ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

ইন্টারভিউে অবশ্যই সচেতন হোন এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উত্তর প্রদান করুন। আপনি আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে নিজেকে প্রমান করুন।

সফলভাবে ইন্টারভিউ পাস করার জন্য নিজেকে সবসময় আত্মবিশ্বাসী রাখুন।

আরও পড়ুন : কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীর চাকরি হয় না; সম্ভাব্য সমাধান

গার্মেন্টস চাকরির আবেদন পত্র:

টেক্সটাইল বা গার্মেন্টস চাকরির জন্য আবেদন পত্র বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। কোনটি জমা দেওয়ার জন্য, আপনাকে কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে আবার কোনটি কোম্পানির নিদিষ্ট ঠিকানায় প্রেরন বা জমা দিতে হবে। এছাড়াও,  আপনি জব পোর্টালগুলোতে গার্মেন্টস চাকরির সার্কুলার পেতে পারেন এবং সেই জব পোর্টালগুলোর মাধ্যমেও আবেদন পত্র জমা দিতে পারেন।

আপনি আবেদনের সময় আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার তথ্য সরবরাহ করতে ভুলবেন না।

গার্মেন্টস চাকরির আবেদন পত্রের নমুনা:

আপনি গার্মেন্টস চাকরিতে আবেদন করার সময় কিভাবে আবেদন পত্র লিখবেন তার সাধারন করেকটি নমুনা নিচে দেয়া হলো:

গার্মেন্টস সুপারভাইজার পদে আবেদন পত্রের নমুনা :

তারিখ-১৫/১২/২০২৩ খ্রিঃ
বরাবর
জেনারেল ম্যানেজার
নিউ ঢাকা ফ্যাশন লি :
ঢাকা, ঢাকা।

বিষয়ঃ গার্মেন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।

জনাব
যথাবিহিত সম্মানপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, গত ১০/১২/২০২৩ ইং তারিখে চাকরির নিয়োগ প্রকাশক ওয়েবসাইট ‘bdjobs.com’ এ প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, আপনার গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে একজন অভিজ্ঞ ‘গার্মেন্টস সুপারভাইজার’ নিয়োগ দেওয়া হবে। আমি উক্ত পদের জন্য একজন প্রার্থী। নিম্নে আমার পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত আপনার সমীপে পেশ করলাম।

১। নাম: জাহিদ হাসান।
২। পিতার নাম: আব্দুল মালেক।
৩। মাতার নাম: কানিজ ফাতেমা।
৪। বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম- তেবাড়িয়া; ডাকঘর- সলিমবাদ; থানা- নাগরপুর; জেলা- টাঙ্গাইল।
৫। স্থায়ী ঠিকানা: ঐ
৬। জন্ম তারিখ: ১৫/০৩/১৯৯৪ ইং।
৭। জাতীয়তা: বাংলাদেশী।
৮। জাতীয় পরিচয় পত্র নং: ১২৩৪৫৬৭৮৯০
৯। ধর্ম: ইসলাম
১০। মোবাইল নাম্বার: +৮৮০১২৩৪৫৬৭৮৯০
১১। শিক্ষাগত যোগ্যতা:

পরীক্ষার নাম গ্রুপ/বিষয় বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় পাশের সন প্রাপ্ত গ্রেড
এসএসসি বিজ্ঞান ঢাকা ২০১০ জিপিএ-৫
এইচএসসি বিজ্ঞান ঢাকা ২০১২ জিপিএ-৫
বিএ বাংলা ঢাকা কলেজ ২০১৬ প্রথম শ্রেণী

১২। অভিজ্ঞতা: ২০২০ ইং সন হতে এবিসি টেক্সটইলে লি সুপারভাইজার হিসাবে কাজ করে আসছি।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন এই যে, উপরোক্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে উক্ত পদের নিয়োগ করলে কৃতার্থ হব।

বিনীত নিবেদক
স্বাক্ষর
জাহিদ হাসান
মোবাঃ +৮৮০১২৩৪৫৬৭৮৯০

গার্মেন্টস চাকরির জন্য আবেদন পত্রে নমুনা ০২ :

[আপনার নাম]
[আপনার ঠিকানা]
[শহর, বিভাগ, পোস্টাল কোড]
[ইমেইল ঠিকানা]
[মোবাইল নম্বর]

[তারিখ]

[পত্রের শিরোনাম/সাবজেক্ট]

প্রিয় [কোম্পানির নাম]/জনাব

আমি [আপনার নাম]। আপনার কোম্পানির [পদের নাম] পদে যোগ দেওয়ার জন্য আমি এই আবেদন পত্র জমা দিচ্ছি।

আমি আপনার গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে অত্যন্ত আগ্রহী। আমি গার্মেন্টস উৎপাদন, ডিজাইন, [অথবা আপনি যে কাজে অভিজ্ঞ তা লিখুন] ইত্যাদি কাজে অভিজ্ঞ এবং প্রফেশনাল দক্ষতা সম্পন্ন। আমি বিশেষভাবে টিম ওয়ার্ক, সমস্যা সমাধান এবং নৈপুণ্যের সাথে কাজ সম্পন্ন করতে পারদর্শী। আমি আপনার কোম্পানির এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার সুযোগ পেলে খুব আনন্দিত হব। 

অতএব আমার সকল যোগ্যতা বিবেচনা করে আপনার প্রতিষ্ঠানে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি আপনার ইন্টারভিউ আমন্ত্রনের জন্য অপেক্ষা করছি।

ধন্যবাদ

[আপনার স্বাক্ষর]
[আপনার নাম]
[যোগাযোগের তথ্য]

সংযুক্তি :

  • পাসপোর্ট সাইজের ৩ কপি ছবি
  • সিভি বা বায়োডাটা
  • সকল শিক্ষা সনদের ফটোকপি
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি

গার্মেন্টস চাকরির আবেদন পত্রের নমুনা ছবি :

গার্মেন্টস সুপারভাইজার চাকরির আবেদন পত্র

গার্মেন্টস চাকরির পদোন্নতির জন্য আবেদন :

আমাদের দেশে গার্মেন্টস চাকরির পদোন্নতির জন্য সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, আপনার কার্যক্রম, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে আপনি এমনিতেই পদোন্নতির পেয়ে যাবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে হতে পারে।

সেক্ষেত্রে প্রথমে আপনার ডিপার্টমেন্ট প্রধান বা ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং তাদের জানান আপনি পদোন্নতি পেতে আগ্রহী। তারপরে, তার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন, এবং ম্যানেজার কে আবেদন পত্রের মাধ্যমে আপনার কার্যক্রম, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করুন।

নিম্নে গার্মেন্টস পদোন্নতির জন্য আবেদন পত্রের নমুনা দেওয়া হলো:

গার্মেন্টস চাকরির পদোন্নতির জন্য আবেদন পত্রের নমুনা ০১:

[আপনার নাম]
[আপনার ঠিকানা]
[শহর, বিভাগ, পোস্টাল কোড]
[ইমেইল ঠিকানা]
[মোবাইল নম্বর]

[তারিখ]

জনাব,

আমি এই পত্রের মাধ্যমে [পদের নাম ] পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করছি। আমি [পদের নাম] পদে আপনার সাথে কাজ করার সুযোগ পেলে নিজেকে গর্বিত মনে করবো ।

আমি [আপনার বর্তমান পদের নাম এবং কাজের বিবরণ প্রদান করুন] এবং আপনার কোম্পানিতে [যোগদানের সময় ] ধরে কাজ করছি। এখানে, আমি গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদন, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, ও পরিচালনা সম্পর্কে প্রায়োজনীয় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। আমি আপনার কোম্পানির পরবর্তী উন্নতি ও বিকাশে সহায়ক হতে ইচ্ছুক।

[পদের নাম] পদে আমি অত্যন্ত দক্ষতা এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। আমি সমস্যা সমাধান, টিম ওয়ার্ক সমন্বয় ও প্রোডাক্টিভ ভাবে একাধিক কাজ কাজ করতে সক্ষম।

অতএব আমি আমার যোগ্যতা অনুযায়ী এই পদে পদন্নতির অনুমোদনের প্রত্যাশা করছি। এবং আমি আপনার উত্তররের অপেক্ষা করছি।

ধন্যবাদ

[আপনার নাম]
[বর্তমান পদ বা পদবী]
[কোম্পানির নাম]

গার্মেন্টস পদোন্নতির জন্য আবেদন পত্রের নমুনা ০২:

আপনার নাম
আপনার ঠিকানা
শহর, বিভাগ, পোস্টাল কোড
ইমেইল ঠিকানা
মোবাইল নম্বর
তারিখ:

জনাব,

সুবিনয় নিবেদক এই যে, আমি (নিজের নাম) গত ৩ বছর যাবত আপনার প্রতিষ্ঠানে (নিজের পদবী) হিসেবে কাজ করে আসছি। এই তিন বছরে আমি নিজেকে (যে পজিশনে পদোন্নতি করতে চান) এর জন্য যোগ্য করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এবং যোগ্য হতে পেরেছি বলে আমি মনে করছি। তাছাড়া বিভিন্ন ক্লাইন্টদের সাথে এখন আমার দারুন রিলেশন তৈরি হয়েছে। আমি প্রতি মাসেই আমার টার্গেট অর্জন করে সক্ষম হচ্ছি। এমতোবস্থায় আমি (নিজের বর্তমান পজিশন) থেকে (যে পজিশনে পদোন্নতি করতে চাচ্ছেন) পদের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করছি। কেননা আমি আমার কাজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি যে পদোন্নতি দেওয়া হলে আমি আমার কাজ আরো দক্ষতার সঙ্গে করার চেষ্টা করব।

অতএব স্যার, আমার বিনীত নিবেদন এই যে,আপনি আমার পদোন্নতির উক্ত অনুরোধ যে মঞ্জুর করে আমাকে আরো ভালো করে কাজ করার সুযোগ করে দিয়ে বাধিত করবেন।

নিবেদক,

নিজের নাম:
নিজের পদবী:
প্রতিষ্ঠানের নাম:
প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা:

গার্মেন্টসের বিভিন্ন পদ:

গার্মেন্টস শিল্পে পোশাক উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন ধরণের কাজ করা হয় । এই কাজের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে গার্মেন্টস এর চাকরি পদ গুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। নিম্নে কিছু প্রধান প্রধান পদ উল্লেখ করা হলো:

হেলপার :

অপারেটর কে সাহায্য করাই হলো হেলপারের কাজ। হেলপার পদে যোগদানের জন্য কোন অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। এই পদে সরাসরি যোগদান করা যায়।

অপারেটর :

গার্মেন্টস শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ন পদ হচ্ছে অপারেটর। গার্মেন্টসে উৎপাদন মূলত অপারেটর এর উপরই নির্ভর করে। বিভিন্ন প্রকারের সেলাই মেশিন চালনার কাজ গুলো মূলত অপারেটর গণ করে থাকেন ! তবে চাইলেই অপারেটর পদে যোগ দেওয়া যায় না। এই পদে যোগ দেওয়ার জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।

সাধারণত হেলপার থেকে প্রমোশণের মাধ্যমে অপারেটর পদে আসতে হয়। অপারেটর গণ হলো গার্মেন্টসের প্রাণ।

সুপারভাইজার :

অপারেটর ও হেলপার এর কাজকে সুপারভাইজ বা দেখাশোনার কাজটি করে থাকেন সুপারভাইজ। তিনি মূলত তার অধীনস্থ অপারেটর ও হেলপার গণকে পরিচালনা করেন এবং কাজের পরিমান হিসাব রাখেন।

সুপারভাইজারেরও আবার বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে যেমন; জুনিয়র বা সিনিয়র সুপারভাইজার এবং অপরদিকে সুইং সুপারভাইজার, কাটিং সুপারভাইজার, ফিনিশিং সুপারভাইজার ইত্যাদি।

এই পদেও চাইলেই যোগ দেওয়া যায় না। অপারেটর থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর এই পদে আসতে হয়।

লাইনচিপ্স :

লাইনচিপ্স সাধারণত তার অধীনস্থ কয়েকটি লাইনে কাজ করে থাকেন। তিনি সুপারভাইজার, অপারেটর, হেলপারগনের কাজ দেখাশোনা ও তদারকি করেন। সুপারভাইজার থেকে পদন্নতির মাধ্যমে এই পদে আসতে হয়।

ইনচার্জ:

একটি ফ্লোরের সমস্ত কাজ দেখাশোনার দ্বায়িত্বে নিযুক্ত থাকেন ইনচার্জ। ইনচার্জের অধিনেই মূলত একটি ফ্লোর পরিচালিত হয়।

মার্কারম্যান :

মার্কারম্যানের কাজ হলো মূলত কাগজে নকশার ছাপ তৈরি করা। যা দিয়ে থাক কাপর বা লে পোশাক তৈরি মাপ অনুযায়ী কাটা হয়।

এই পদেও সরাসরি যোগদান করা যায় না। যোগদানের জন্য অভিজ্ঞতা লাগে।

লে ম্যান:

লে ম্যানের কাজ হচ্ছে কাপড়ের রোল থেকে কাপড় বিছিয়ে রাখেন। এবং লে কাপড় কাঁটার কাজে কাটার ম্যানকে সাহায্য করা। এই পদে কোন প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয়!

কাটার ম্যান :

মার্কারম্যানের করা ডিজাইন অনুযায়ী কাটার ম্যান গণ মেশিনের মাধ্যমে কাপড় কাটেন। লে ম্যান থেকে পদন্নতির মাধ্যমে এই পদে যোগদান করতে হয়। এই পদের মান অপারেটরের সমান।

কোয়ালিটি :

পোশাক বা কাপড়ের কোয়ালিটি বা গুনাগুন পরিক্ষা করার কাজটি করে থাকেন কোয়ালিটিরা। ফল্ট, ত্রুটি যুক্ত অচল পশাক চিহ্নিত করাই এদের কাজ। এই পদে অভিজ্ঞতা ছাড়া সরাসরি যোগ দেওয়া যায়।

কোয়ালিটি কন্ট্রলার :

কোয়ালিটি বিভাগের সুপার ভাইজার হলেন কোয়ালিটি কন্ট্রলার। তারা তাদের অধীনস্থ কোয়ালিটি গণদের তদারকি করেন। এই পদে যোগদানের জন্য অভিজ্ঞতা লাগে! কোয়ালিটি গণ প্রমোশণের মাধ্যমে এই পদে আসেন।

মেকানিং:

এরা বিভিন্ন মেকানিং এর দায়িত্ব পালন করেন! মেকানিকের বেতন প্রায় সুপারভাইজারের বেতনের কাছাকাছি হয়।

HR ও এ্যাডমিন :

HR ও এ্যাডমিন গণের কাজ হলো লোক নিয়োগ দেওয়া এবং কাজ পরিচালনা করা, বিভিন্ন কাজের হিসাব রাখাসহ বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ সম্পন্ন করা। এই পদে অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রবেশ করা যায়। তবে প্রযুক্তি জ্ঞান, কম্পিউটা জ্ঞান ও উচ্চ শিক্ষিত হতে হয়।

ম্যানেজার :

গার্মেন্টস শিল্পে প্রতি ইউনিটের জন্য একজন করে ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয় । যেমন; কাটিং ম্যানেজার, কোয়ালিটি ম্যানেজার, সুইং ম্যানেজার ইত্যাদি। এরা মূলত সম্পূর্ণ একটি ডিপার্টমেন্ট দেখাশোনা করে থাকেন।

এই পদে যোগদানের জন্য প্রচুর অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।

এছাড়া আরো অনেক পদ রয়েছে; যেমন: সিজার ম্যান, আইরন ম্যান, নাম্বারম্যান, বান্ডিলম্যান, ইনপুটম্যান, মেডিকেল MBBS ডাক্তার, গার্মেন্টস সিকিউরিটি গার্ড, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছনতা কর্মী, আয়া, টাইম কিপার, মালী, ড্রাইভার, ইত্যাদি ইত্যাদি।

শেষ কথা :

এতক্ষন আমরা গার্মেন্টস এ চাকরি, চাকরির যোগ্যতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, গার্মেন্টস চাকরির আবেদন পত্র এবং পদোন্নতির লিখার নিয়ম ও নমুনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আশা করি আপনি এই নিয়ে আপনার ডাউট ক্লিয়ার হয়েছে।

Visited 339 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment