শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী অবরোধ – স্কুল কলেজ কি বন্ধ হবে?

নির্দলীয় তত্ত্ববোধয়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির ডাকা গত ৩১ তারিখ থেকে ০২ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশব্যাপী আকাশ, রেল এবং সড়ক পথে সর্বাত্মক আররোধ শেষে আবারো ৪৮ ঘন্টা ব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন ৫ নভেম্বর রোববার সকাল ছয়টা থেকে ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত দেশজুড়ে এই কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তবে বিএনপির ডাকা গত তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায়, দিন দিন আরো সহিংস হয়ে উঠছে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা। যারা প্রেক্ষিতে স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকের।

আরও পড়ুন : স্থগিত হওয়া পিজিসিবি পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা

দেশব্যাপী অবরোধের প্রভাব

বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা গত তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল কলেজ গুলোতে অভিভাবকদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার চিত্রই ফুটে উঠেছে। এই সময় স্কুল কলেজ গুলোতে প্রায় ৭০% শিক্ষার্থী অনুপস্থি ছিল। বাসে অগ্নি সংযোগ, মারামারি, ভাঙচুরের মধ্যে অভিভাবকগণ তাঁদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর বিষয়ে বেশ চিন্তিত।

তবে সরকারি ভাবে স্কুল কলেজ বন্ধের কোন নির্দেশনা এখন পর্যন্ত আসেনি। তবে রাজধানীর কিছু বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে আবরোধের মধ্যে স্কুল কলেজ বন্ধ রাখার চিত্র দেখা গেছে। তবে সামনের দিন গুলোতে পরিস্থিতি কোন দিন মোড় নিবে তার উপর উপর স্কুল কলেজ বন্ধ হবে কিনা তা নির্ভর করছে।

যদিও নভেম্বর মাসের মধ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মূল্যায়ন শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে কোনো অভিভাবক যদি তার সন্তানকে স্কুলে না পাঠায় তবে তাকে অ্যাভসেন্স (অনুপস্থিত) দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি এ সংখ্যা যদি বেশি হয় তবে তাদের জন্য ভার্চুয়ালি ক্লাস করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির ডাকা অবরোধের মধ্যে স্কুল কলেজ বন্ধ হবে কিনা সে সম্পর্কে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ জানান, ‘স্কুলগুলোতে ৯ নভেম্ব থেকে বার্ষিক মূল্যায়ন শুরু হবে। তাই এখনই অন্য কোনো বিষয় ভাবার সময় আসেনি। আমরা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে’।

অন্যদিকে দেশ ব্যাপি এ দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় গত তিন দিনের অধিকাংশ সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়ে হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখ হলো পাওয়ার গ্রিডের চাকরির পরীক্ষা, বাপেক্সের পরীক্ষা, নিম্নতম মজুরি বোর্ডের পরীক্ষা, প্রাণিসম্পদ গবেষণার পরীক্ষা, স্থাপত্য অধিদপ্তরের পরীক্ষা।

Visited 30 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment