দরখাস্ত লেখার নিয়ম ও নমুনা ২০২৪ [Updated নিয়ম]

গ্লোবালাইজেশন কারণে ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল তথ্য আদান-প্রদানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সভ্যতার উন্নতি ও কালের বিবর্তনে ফলে এক সময়ের বহুল ব্যবহৃত চিঠি বা দরখাস্তের ব্যবহার অনেক কমে গেছে বললেই চলে। বর্তমানে কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, ইমেল, টেক্সট, ডিজিটাল ম্যাসেজিং দরখাস্তের জায়গা পুরোপুরি নিয়ে নিয়েছে। তবে এখনো অফিশিয়াল যোগাযোগ বা আবেদনের জন্য দরখাস্ত/আবেদন পত্র ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে দরখাস্ত ব্যবহারের একটি অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে চাকরির দরখাস্ত। যেমন পৌরসভা কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি -তে স্বহস্তে লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমে আবেদন করতে বলেছে। তাই এই আলোচনায় আমরা ২০২৪ সালের আধুনিক নিয়মে বাংলা দরখাস্ত লেখার নিয়ম, ফরম্যাট, নমুনা এবং দরখাস্ত লেখার বিভিন্ন টিপস নিয়ে আলোচনা করবো।

আরও পড়ুন: ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কি কি কাগজ লাগে

দরখাস্ত কি?

দরখাস্ত হচ্ছে মূলত কারো কাছে আবেদন। আর এই আবেদনটা কোন ব্যক্তির কাছে হতে পারে আবার কোন প্রতিষ্ঠানের কাছেও হতে পারে। তবে দরখাস্ত এবং আবেদন পত্র মূলত একই জিনিস। যখন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট একটি সুনির্দিষ্ট গঠন প্রণালী অনুসরণ করে লিখিত কোন পত্রের মাধ্যমে আবেদন বা আর্জি জানানো হয় তখন সেটাকেই মূলত দরখাস্ত বা আবেদন পত্র বলা হয়।

তবে বর্তমানে দরখাস্ত বলতে শুধু মাত্র কাগজলে লিখা কোন আবেদন বা আর্জিকে বোঝানো হয় না। দেশ যেমন ডিজিটাল হয়েছে তেমনি দরখাস্ত ডিজিটাল হয়েছে। এমন দরখাস্ত প্রেরণের মাধ্যমেরও ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। যার কারণে বর্তমানে ডাক বা কুরিয়ার উপর দরখাস্ত আর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। এখন দরখাস্ত অনলাইন এবং আফলাইন উভয় মাধ্যমেই প্রেরন করা যায়। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে আবেদন সহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দরখাস্ত ইমেইল বা অনলাইনে প্রেরন করা যায়।

ইন্টারনেট সুবিধা দেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করার কারণে দরখাস্ত প্রেরণের মাধ্যম হিসাবে এক সময়ের বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম ডাকের ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়ে এসেছে। তবে দরখাস্ত যে অনলাইল বা অফলাইন যে মাধ্যমেই লিখা হোক না কেন তা লেখার সময় সর্বক্ষেত্রেই কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়।

বর্তমানে যেসব ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি দরখাস্ত ব্যবহারের করা হয় তার মধ্যেয়ে অন্যতম কয়েকটি ক্ষেত্র গুলো হলো চাকরির আবেদন পত্র, স্কুলে বা অফিসে অনুপস্থিতির জন্য দরখাস্ত, পত্রিকায় প্রকাশের জন্য আবেদন, ব্যবসায়িক আবেদন ইত্যাদি।

আরও পড়ুন : চাকরির বায়োডাটা লেখার নিয়ম [Updated নিয়ম]

বাংলা দরখাস্ত লেখার নিয়ম :

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় এখনও দরখাস্ত লিখার সময় অনেক শিক্ষার্থীদের মাথায় আসে, দরখাস্ত কিভাবে লেখে বা আমি কিভাবে দরখাস্ত লিখব। এই অংশে আমরা একটি দরখাস্তের অংশ গুলোকে বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখাবো কিভাবে লিখতে হয়।

প্রাচীন কাল থেকেই বাংলা দরখাস্ত লেখার বিভিন্ন নিয়ম প্রচলিত হয়ে আসছে। সময়ের প্রয়োজনে তা দিন দিন আরও বেশি উন্নত হয়েছে। যার কারণে বাংলা দরখাস্ত লেখার বর্তমান নিয়মটিকে সংশোধিত এবং পরিমার্জিত নিয়ম বললে ভুল হবে না।

বর্তমানে বাংলা সিভি লেখার নিয়ম-এর মত বাংলা দরখাস্ত লেখার ক্ষেত্রেও সর্বশেষ পরিমার্জিত নিয়মটি অনুসরণ করা করা হয়।

দরখাস্তের কয়টি অংশ থাকে ও কি কি?

দরখাস্ত প্রেরণের মাধ্যমের ডিজিটালিজেশনের কারণে বর্তমানে দরখাস্ত ইমেইল বা অন্য অনলাইন মাধ্যমেরও প্রেরন করা যায়। এবং তা বর্তমানে বহুল প্রচলিত। তাই খামে প্রেরিত দরখাস্ত এবং অনলাইনে প্রেরিত দরখাস্তের মধ্যে সামান্য তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। তবে সর্বোপরি বর্তমানে ২০২৪ সালের একটি আধুনিক বাংলা দরখাস্তকে দুটি অংশ ভাগ করা হয়।

  • শিরোনাম বা বাহিরের অংশ।
  • পত্রগর্ভ বা ভেতরের অংশ।

পত্রগর্ভ বা ভেতরের অংশ লেখার নিয়ম :

একটি দরখাস্ত মূল অংশকে মূলত বলা হয় পত্রগর্ভ। অর্থাৎ দরখাস্তের মূল আবেদন বা আর্জিটাকে বলা হয় পত্রগর্ভ। আধুনিক দরখাস্তের পত্রগর্ভে সাধারণত পাঁচটি অংশ থাকে। ১. তারিখ ২. প্রাপকের নাম, পদবী ও ঠিকানা ৩. বিষয় ৪. সম্ভাষণ ও ৫. মূল বক্তব্য। একটি দরখাস্ত মূলত এই পাঁচটি অংশ নিয়েই গঠিত। তবে ক্ষেত্র বিশেষে এর সামান্য হেরফের হতে পারে।

  • তারিখ : দরখাস্তের পত্রিগর্ভের প্রথম অংশটি হচ্ছে তারিখ। তারিখ লিখার মাধ্যমেই মূলত দরখাস্ত লিখা শুরু করতে হয়। আর তারিখ সব সময় দরখাস্তের বামে লিখতে হয়।
  • প্রাপকের পেশাগত পদবী ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা: তারিখ পরে যার বরাবর দরখাস্ত লিখছেন তার পেশাগত পদবী/নাম, তিনি যে প্রতিষ্ঠানে সাথে যুক্ত আছেন বা কাজ করেন তার নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা লিখতে হয়।
  • বিষয় : দরখাস্তের একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে বিষয়। বিষয়ের মাধ্যমে আপনি কি কারণে দরখাস্ত লিখেছেন তা প্রাপকের বুঝতে সুবিধা হয়। প্রাপকের পেশাগত পদবী ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা উল্লেখ করার পর পত্রের বিষয়টি সংক্ষিপ্ত করে স্পষ্ট ভাবে লিখতে হয়। যেমন : “বিষয় : চাকরির জন্য আবেদন” ইত্যাদি।
  • সম্বোধন: দরখাস্তের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে সম্বোধন। দরখাস্তের বিষয় লিখার পর দরখাস্তের সম্বোধন লিখতে হয়। বাংলা দরখাস্তে ‘স্যার, মহোদয়, জনাব, মহাশয়’ ইত্যাদি সম্ভাষণ প্রচলিত রয়েছে। তবে চাকরির আবেদন বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘জনাব’ সম্বোধনটি ব্যবহার করাই উত্তম। আর দরখাস্ত সম্বোধন সব সময় পুলিংগে করতে হয়। ম্যাডাম বা জনাবা ব্যবহার করা যাবে না।
  • মূল বক্তব্য : দরখাস্তের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দরখাস্তের মূল বক্তব্য যতটা পারা যায় সংক্ষিপ্ত রাখায় উত্তম। তবে সাধারণত মূল বক্তব্য সর্বোচ্চ চার প্যারার মধ্যেই লিখতে হয়। এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য গুলো মূল বক্তৃব্যের নিচে লিখতে হয়। যেমন : চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্যাদি যেমন আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতা ইত্যাদি মূল বক্তব্যের নিচে ক্রমান্বয়ে যোগ করতে হয়। কিভাবে গার্মেন্টস চাকরির দরখাস্ত লিখবে তা জানতে দেখুন: গার্মেন্টস চাকরির আবেদন ও পদোন্নতি পত্র লেখার নিয়ম ও নমুনা
  • প্রেরকের নাম ও স্বাক্ষর : সবশেষে দরখাস্তের নিবেদক কে তার নাম ও পেশাগত পদবী (যদি থাকে) লিখে স্বাক্ষর করতে হয়। নাম এবং স্বাক্ষর করার পূর্বে ‘নিবেদন বা বিনীত নিবেদন’ কথাটি উল্লেখ করতে হয়।

শিরোনাম বা বাহিরের অংশ লেখার নিয়ম :

একটি দরখাস্তের বাহিরের অংশকে বলা হয় শিরোনাম। অর্থাৎ দরখাস্ত প্রেরণের জন্য যে খাম ব্যবহার করা হয় সেই খামের উপরে লিখিত অংশ কে শিরোনাম বলে। আমরা পূর্বেই বলছি দরখাস্ত প্রেরণের মাধ্যমের উপর ভিত্তিকে দরখাস্তের অংশের সামান্য পার্থক্য হতে পারে। এই কথাটি মূলই এই অংশের জন্যই বেশি প্রযোজ্য।

কারণ খামের মধ্যে ডাক যোগে দরখাস্ত লিখার প্রয়োজন হলেই ইমেইলে দরখাস্ত প্রেরণের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হয় না। খামে শিরোনাম লিখার ক্ষেত্রে বাম পাশে প্রেরকের ঠিকানা এবং ডান পাশে প্রাপকের ঠিকানা লিখতে হয়। নোট : প্রাপকের ঠিকানা লিখার সময় সম্বোধন সূচক ‘জনাব’ শব্দটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

কিন্তু ইমেইলের মাধ্যমে দরখাস্ত প্রেরণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইমেইলের ‘to’ বক্সে প্রাপকের ইমেইল এড্রেস এবং ‘Subject’ বক্সে শুধু মাত্র দরখাস্তের সাবজেক্ট লিখে দিয়েই শিরোনাম অংশটি হয়ে যায়।

দরখাস্তের ফরম্যাট বা কাঠামো :

তারিখ

বরাবর
প্রাপক/কর্তৃপক্ষের নাম
ঠিকানা

বিষয়:

জনাব/স্যার,
সাধারণত মূল বক্তব্য সর্বোচ্চ এক থেকে চার প্যারার মধ্যেই লিখতে হবে । এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য গুলো মূল বক্তৃব্যের নিচে লিখতে হবে।

নিবেদক/বিনীত নিবেদক
আবেদনকারীর নাম
পেশাগত পদবী, ঠিকানা

বাংলা দরখাস্তের নমুনা :

প্যাকটিক্যালি একটি দরখাস্ত কেমন হয়ে সেই বিষয়টি চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের দরখাস্ত লিখার সুবিধার জন্য নিচে কয়েকটি প্রয়োজনীয় দরখাস্তের নমুনা দেওয়া হলো :

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্যে প্রধান শিক্ষকের নিকট একটি দরখাস্ত:

তারিখ : ১০/১০/২০২৪ ইং

বরাবর
প্রধান শিক্ষক,
কায়েমপুর শহীদ তিতুমীর একাডেমী
কারেমপুর, নারায়ণগঞ্জ

বিষয় : বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্যে আবেদন।

স্যার,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের/ ১০ম শ্রেণীর একজন গরিব ছাত্র। আমি বিগত কয়েক বছর যাবৎ আপনার বিদ্যালয়ে রীতিমত অধ্যয়ন করে আসছি। আমি গত বার্ষিক পরীক্ষার ১ম স্থান অধিকার করে ১০ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার বড় ভাই কলেজে, মেঝ ভাই স্কুলে এবং ছোট দুভাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যয়ন করছে। আমার বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন স্বল্প বেতনের পিয়ন। আমাদের পরিবারের ৮ জন লোকের ভরণ-পোষণ ও আমাদের লেখা-পড়ার খরচ বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ নিদারুণ অর্থ সংকটে আমার লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অতএব, মহোদয় সমীপে আকুল প্রার্থনা এই যে, অনুগ্রহপূর্বক আমাকে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দানে বাধিত করবেন।

বিনীত নিবেদক-
আপনার একান্ত বাধ্যগত ছাত্র
মোঃ আল ইমরান ১০ম শ্রেণী, রোল নং-১।

অনুপস্থিত থাকার বা ছুটির জন্যে প্রধান শিক্ষকের কাছে দরখাস্ত:

তারিখ : ১১/১০/২০২৪ ইং

বরাবর
প্রধান শিক্ষক,
আজিমপুর হাই স্কুল, আজিমপুর, ঢাকা।

বিষয় : অনুপস্থিত থাকার কারণে ছুটির চেয়ে আবেদন ।

সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ০৭ অক্টোবর থেকে আমি ব্যাপক ভাবে জ্বর, সর্দি ও মাথা ব্যথায় অসুস্থ ছিলাম। এই কয়দিন আমি বিছানা ছেড়ে উঠতে পারিনি। এ কারণে আমি গত ০৭ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারিনি।

অতএব, মহোদয়ের নিকট প্রার্থনা এই যে, অনুগ্রহপূর্বক আমার এই ৩ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে আমাকে বাধিত করবেন।

বিনীত নিবেদিক
আপনার একান্ত অনুগত ছাত্র
মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম
৯ম শ্রেণী, রোল নং-১।

বোনের বিয়ে উপলক্ষে ৫ দিনের ছুটি চেয়ে দরখাস্ত:

তারিখ : ১০/১০/২০২৪ ইং

বরাবর
প্রধান শিক্ষক,
হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ধামরাই, ঢাকা।

বিষয় : পাঁচ দিনের অগ্রিম ছুটির জন্যে আবেদন ।

সবিনয় নিবেদন এই যে, আগামী ১৫ অক্টোবর আমার বড় বোনের বিবাহ অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়েছে। এ বিবাহের ব্যাপারে আমাকে বাসার কাজে সহযোগিতা করতে হবে। এ কারণে আমি ১৩ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারব না।

অতএব, মহোদয়ের নিকট প্রার্থনা এই যে, অনুগ্রহপূর্বক আমাকে উক্ত ৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করবেন।

নিবেদিকা
আপনার একান্ত অনুগত ছাত্রী
মোসাঃ নুসরাত জাহান লতা ৮ম শ্রেণী, রোল নং-২।

সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির দরখাস্ত:

তারিখ: ২৫/১১/২০২৪ ইং

বরাবর
প্রধান শিক্ষক,
পফব উচ্চ বিদ্যালয়
সাভার, ঢাকা।

বিষয়ঃ সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।

জনাব
বিনীত নিবেদন এই যে, গত ২০/১১/২০২৪ ইং তারিখে চাকরি বিষয়ক অনলাইন পত্রিকা www.bdjobs.com -এ প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, আপনার বিদ্যালয়ে একজন অভিজ্ঞ সহকারী শিক্ষক প্রয়োজন। এবং যোগ্য প্রার্থীদের জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। আমি নিজেকে উক্ত পদের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী হিসাবে মনে করি । নিম্নে আমার পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত আপনার নিকটে পেশ করলাম।

১। নাম: জহুরুল ইসলাম ।
২। পিতার নাম: আব্দুর রহমান।
৩। মাতার নাম: রহিমা বেগম ।
৪। বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম- কখগ ; ডাকঘর- চছজ ; থানা- সাভার; জেলা- ঢাকা।
৫। স্থায়ী ঠিকানা: ঐ
৬। জন্ম তারিখ: ১০/০৫/১৯৯৫ ইং।
৭। জাতীয়তা: বাংলাদেশী।
৮। জাতীয় পরিচয় পত্র নং: ১২৩৪৫৬৭৮৯০
৯। ধর্ম: ইসলাম
১০। মোবাইল নাম্বার: +৮৮০১৭১২৩৪৫৬৭৮
১১। শিক্ষাগত যোগ্যতা:

পরীক্ষার নাম গ্রুপ/বিষয় বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় পাশের সন প্রাপ্ত গ্রেড
এসএসসি বিজ্ঞান ঢাকা ২০১০ জিপিএ-৫
এইচএসসি বিজ্ঞান ঢাকা ২০১২ জিপিএ-৫
বিএ বাংলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৬ প্রথম শ্রেণী
এমএ বাংলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৭ প্রথম শ্রেণী

১০। অভিজ্ঞতা: ২০২০ ইং সন হতে একটি জুনিয়র স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা করে আসছি।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন এই যে, উপরোক্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে উক্ত পদের নিয়োগ করলে কৃতার্থ হব।

বিনীত নিবেদক
স্বাক্ষর
জহুরুল ইসলাম
মোবাঃ +৮৮০১৭১২৩৪৫৬৭৮

দরখাস্ত লেখার নিয়ম ছবি :

দরখাস্ত লেখার নিয়ম ছবি

দরখাস্ত লেখার নিয়ম pdf :

এখানে pdf এর মধ্যে বাংলা দরখাস্ত লেখার বর্তমান নিয়ম, উদাহরণ, নমুনা, গঠন টিপস ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়ে। যা ডাউনলোড করে সহলেই এই বিষয়ে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে পারবেন। দরখাস্ত লেখার নিয়ম pdf

আধুনিক দরখাস্ত লেখার টিপস :

বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে দরখাস্ত লেখার সময় এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম গুলোর পাশাপাশি এই টিপস গুলো অনুসরণ করা উচিত।

  • প্রাপকের কাছে আপনার দরখাস্তটি পাঠানোর আগে, দরখাস্তে কোনো ভুল আছে কিনা তা একবার যাচাই করুন।
  • দরখাস্ত লিখার সময় সসময় A4 সাইজের সাদা কাগজ ব্যবহার করুন। এবং সর্বাবস্থায় রঙিন পেপার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
  • দরখাস্ত প্রেরণের পূর্বে সেখানে কোন বানান ভুল বা অসামঞ্জস্যাপূর্ন বাক্য আছে কিনা তা যাচায় করুন।
  • দরখাস্তে আপনার নাম এবং সম্পূর্ণ ঠিকানা সঠিক লিখেছেন কিনা তা যাচাই করুন।
  • দরখাস্তে তারিখ লিখাটা খুব গুরুত্বপূর্ন। তাই প্রাপকের ঠিকানায় দরখাস্ত প্রেরণের পূর্বে দরখাস্তে সঠিক তারিখ লিখেছেন কিনা সেটা যাচায় করুন।
  • দরখাস্তে প্রাপকের পুরো নাম বা পদবী এবং পুরো ঠিকানাটি লিখেছেন কিনা তা নিশ্চিত করুন।
  • দরখাস্তে প্রাপকে সঠিকভাবে সম্বোধন করুন। বাংলা দরখাস্তের জন্য জবাব বা স্যার ব্যবহার করাই উত্তম । আর যদি পদবী ব্যবহার করতে হয় তাহলে সঠিক পদবী ব্যবহার করেছেন কিনা তাও পরীক্ষা করুন।
  • দরখাস্ত সবসময় ২-৪ প্যারার মধ্যে লিখার চেষ্টা করুন। এবং দরখাস্তের শেষে সবসময় কালো বা নীল কালিতে স্বাক্ষর করুন।

শেষ কথা :

বর্তমানে বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের দরখাস্ত লেখতে হয়। দরখাস্ত আপনার হয়ে আপনার আবেদন আর একজনের নিকট উপস্থাপন করে। তাই দরখাস্ত লেখার সময় এর যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা উচিত। পাশাপাশি দরখাস্তের ভাষা সহজ, সরল, প্রাঞ্জল এবং বোধগম্য হওয়া উচিত ।

Visited 1,639 times, 42 visit(s) today

Leave a Comment